LightReader

UNTitled,Dt_Sneha_Chowdhury1771846793

Dt_Sneha_Chowdhury
7
chs / week
The average realized release rate over the past 30 days is 7 chs / week.
--
NOT RATINGS
98
Views
VIEW MORE

Chapter 1 - When the City Sent Him Back)

কলকাতা শহর শুধু ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়; সে স্মৃতি জমা রাখে, ভালোবাসা ধরে রাখে, আর কখনও কখনও মানুষের অপূর্ণ কথাগুলোও নিজের ভেতর লুকিয়ে রাখে। "যখন শহর ওকে ফিরিয়ে দিল" একটি আরবান রোমান্টিক গল্প, যেখানে ভালোবাসা, অনুতাপ, ক্ষমা আর দ্বিতীয় সুযোগ এক অদ্ভুত রাতের ভেতর মিলেমিশে যায়।

গল্পের কেন্দ্রবিন্দু রিয়া — একজন তরুণী, যে একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সিতে কাজ করে। তার জীবন সাধারণ, ব্যস্ত এবং যান্ত্রিক। প্রতিদিন অফিস, ডেডলাইন, ক্লায়েন্ট কল আর ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরা। বাইরে থেকে সে স্বাভাবিক, হাসিখুশি এবং শক্ত মনে হলেও তার ভেতরে জমে আছে তিন বছরের এক গভীর অনুতাপ।

তিন বছর আগে, কলেজজীবনে, রিয়ার জীবনে ছিল অর্ণব। অর্ণব ছিল তার প্রথম ভালোবাসা, তার বন্ধু, তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তারা দুজন একসাথে কলকাতার রাস্তায় হাঁটত, ক্যাফেতে বসে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করত, ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে একসাথে থাকার স্বপ্ন দেখত। তাদের সম্পর্ক ছিল গভীর, কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক অহংকার আর ভুল বোঝাবুঝির কাছে সেই সম্পর্ক একদিন ভেঙে পড়ে।

একটি তুচ্ছ ঝগড়া বড় আকার নেয়। রাগের মাথায় তারা একে অপরকে কষ্টদায়ক কথা বলে ফেলে। সেই রাতেই অর্ণব লাস্ট মেট্রো ধরে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—সেই রাতেই ঘটে যায় একটি দুর্ঘটনা। অর্ণব আর ফিরে আসে না।

অর্ণবের মৃত্যুর পর রিয়ার জীবন থেমে যায়। সে নিজেকে দোষী মনে করতে শুরু করে। যদি সেদিন সে ফোনটা ধরত? যদি ক্ষমা চাইত? যদি তাকে থামাত? এই "যদি" শব্দটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়ায়।

তারপর থেকে প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে রিয়া মেট্রো স্টেশনে দাঁড়ায়। সে জানে অর্ণব আর ফিরবে না, তবুও তার মনে হয় শহরটা হয়তো একদিন তাকে ফিরিয়ে দেবে। হয়তো এক ঝলক দেখা, হয়তো একটা অসমাপ্ত কথা।

এক রাতে, লাস্ট মেট্রোতে, রিয়া একজন অদ্ভুত ছেলেকে দেখতে পায়। ছেলেটি চুপচাপ বসে থাকে, কিন্তু তার চোখে অদ্ভুত এক শান্তি। ধীরে ধীরে সে রিয়ার সাথে কথা বলতে শুরু করে। তার কণ্ঠে পরিচিত সুর, তার চোখে সেই চেনা দৃষ্টি।

রিয়া প্রথমে বিশ্বাস করতে পারে না। সে ভাবে হয়তো কল্পনা, হয়তো ক্লান্তি। কিন্তু ছেলেটি তার এমন কিছু কথা জানে যা শুধু অর্ণব জানত। সে বলে, "তুমি এখনও একই জায়গায় দাঁড়াও কেন?" — এই প্রশ্নে রিয়ার বুক কেঁপে ওঠে।

ট্রেন অন্ধকার টানেলের মধ্যে ঢুকে যায়। আলো টিমটিম করে। বাইরের পৃথিবী যেন থেমে যায়। সেই মুহূর্তে রিয়া বুঝতে পারে, এই সাক্ষাৎ সাধারণ নয়। এটা হয়তো বাস্তবের বাইরে কিছু, হয়তো শহরেরই এক অলৌকিক উপহার।

অর্ণব (অথবা তার স্মৃতি) রিয়াকে দোষ দেয় না। বরং সে বলে, "আমি কখনও যাইনি। তুমি যেখানে আমাকে মনে রেখেছ, আমি সেখানেই ছিলাম।" এই কথার মধ্যেই গল্পের মূল বার্তা লুকিয়ে আছে—ভালোবাসা কখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না; তা রূপ বদলে থেকে যায়।

রিয়া হাত বাড়িয়ে তাকে ছুঁতে চায়। মুহূর্তটা যেন সময়ের বাইরে। কিন্তু পরের স্টেশন আসতেই দরজা খুলে যায়, আর অর্ণব অদৃশ্য হয়ে যায়। তার জায়গায় পড়ে থাকে একটি ছোট্ট নোট—"Live. Love. Forgive."

এই নোট শুধু একটি বার্তা নয়; এটি রিয়ার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সে বুঝতে পারে, এতদিন সে অতীতকে আঁকড়ে ধরে নিজের জীবন থামিয়ে রেখেছিল। সে অর্ণবকে হারায়নি; সে নিজেকেই হারিয়েছিল।

গল্পের শেষাংশে রিয়া আর লাস্ট মেট্রো ধরতে যায় না। কারণ সে আর অপেক্ষা করে না। সে সিদ্ধান্ত নেয় নিজের জীবনে আবার আলো ফিরিয়ে আনবে। সে নিজেকে ক্ষমা করবে, নতুন করে ভালোবাসবে, এবং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।

"যখন শহর ওকে ফিরিয়ে দিল" আসলে এক রাতের গল্প হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ তিন বছরের আবেগ, অনুশোচনা এবং আত্ম-অন্বেষণের যাত্রা। এই গল্প আমাদের শেখায় যে, কখনও কখনও আমরা যাদের হারাই, তারা ফিরে আসে না মানুষ হয়ে—ফিরে আসে শক্তি হয়ে, সাহস হয়ে, বা ক্ষমা করার ক্ষমতা হয়ে।

কলকাতা এখানে শুধু একটি শহর নয়; এটি এক জীবন্ত চরিত্র। সে নীরবে দেখে, শোনে, আর সঠিক সময়ে মানুষকে তার প্রয়োজনীয় উত্তরটি দিয়ে দেয়।

গল্পটি শেষ হয় এক শান্ত কিন্তু আশাবাদী অনুভূতিতে। রিয়া জানে না সেদিন যা ঘটেছিল তা বাস্তব ছিল কিনা। কিন্তু সে জানে, সেই রাতের পর সে বদলে গেছে। আর হয়তো এটাই ছিল শহরের আসল উপহার—একটি দ্বিতীয় সুযোগ।